পাবনার বেড়ায় বিশিষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক! ভ্রম্যমান আদালতে ১ বছরের জেল ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা - Pabnar Somoy



মীর্জা অপু,পাবনা 

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ত্রিমোহনী,তালিমনগর,মাইছা পাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেশ মাইশা খানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসআই মিজানুর রহমান, এসআই আবদুল লতিফসহ আমিনপুর থানার একটি চৌকস পুলিশ টিম অংশ নেয়।


এ সময় ইয়াবা ব্যবসায়ী জনির নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পরিবহনে ব্যবহৃত ইয়াবার সুগন্ধ যুক্ত আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত কার্টুন,টেপ,কসটেপ দিয়ে ইয়াবার ঝাঁজালো ঘ্রাণই প্রমাণিত হয়েছে সে গুলো মাদক সরবারহে ব্যবহার করেছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় জনিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেস মাইশা খান। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও আদেশ দেন আদালত।আটক জনি সে আমিনপুর থানা এলাকার ত্রিমোহনী ,তালিমনগর,মাইছা পাড়া এলাকার লুৎফর রহমান ওরফে (লুতু মেম্বার) এর ছেলে।

এদিকে ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী জনির আটকের খবরে সেখানকার স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল ও নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভ মিছিলে আগতরা বলেন,মাদক ব্যবসায়ী জনি হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে ইয়াবা ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।গাড়ি বাড়িসহ ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন।তাদের দাবি এই কয়েক বছরে ইয়াবার ব্যবসা করে এই অর্থ আয় করেছেনতিনি।এ সময় তারা জনির পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তেরও দাবি জানান সমাবেশ থেকে।

এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, পাবনা জেলা পুলিশ সুপার সফিউল্লাহ স্যারের নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আমিনপুর থানাসহ পুরো পাবনা জেলায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আমরা কঠোর অবস্থান বজায় রাখব।মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজের সচেতন মানুষ ও সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। কোথাও মাদকের অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা আপোষহীন অবস্থানে আছি এবং থাকব।"

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুরেশ মাইশা খান বলেন,আটক আসামির বিরুদ্ধে আমার নিকট বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ আসছে তিনি মাদক দ্রব্য বিক্রি করছেন এতে ওই এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজ মাদকের সাথে জড়িত হয়ে যাচ্ছে।তারপর থেকেই তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়।তারই সূত্র ধরে আজ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।উক্ত অভিযানে তার নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ইয়াবার সুগন্ধ যুক্ত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত কার্টুন,টেপ,কসটেপসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে ইয়াবার ঝাঁজালো ঘ্রাণই প্রমাণিত হয়েছে সে গুলো মাদক সরবারহে ব্যবহার করে থাকেন এবং আসামি জনি নিজেই আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি ৩ বছর ধরে এই মাদক ব্যবসার করে আসছেন।অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় জনিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।জনস্বার্থ এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

0/Post a Comment/Comments