বেড়া উপজেলার ১০ বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয় ঘোষণাসহ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় বাস্তবায়নে ১৭ টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে

মীর্জা অপু (পাবনা)

বেড়া উপজেলার শিক্ষা উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মোট ১০টি যোগ্য বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলার সম্মানিত নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ মোর্শেদুল ইসলাম।

সভায় নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর প্রধানশিক্ষকগণ উপস্থিত থেকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও মতামত তুলে ধরেন। নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ তালিকায়  ১০ টি বিদ্যালয় স্থান পেয়েছে বেড়া হাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,নাকালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরনতিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,নাটিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রূপপুর পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাকসা সাফুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কৈটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কাজী শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস বিতরণ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি,শিক্ষার্থীদের নৈতিক মুল্যবোধ,ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বেড়া উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাস্তবায়নে ১৭টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে-বিদ্যালয় প্রাঙ্গন,শ্রেনি কক্ষ,টয়লেট সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রতিদিন ৯০% এর উপর রাখা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্তিতি ১০০% করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে।সকল শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস,জুতা,ব্যাগ ব্যাবহারের পাশাপাশি ড্রেস কোড অনুসরণ করতে হবে।প্রত্যেক শিক্ষার্থী শ্রেণির মানদণ্ড অনুযায়ী শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি রিডিং, গনিতের সাধারণ নিয়ম(যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ)বাংলা ব্যাকরন জানবে এবং ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করাসহ প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে টেষ্ট কুইজ নিতে হবে এবং কুইজ টেস্টের নম্বর সামষ্টিক মুল্যায়নের সাথে যোগ করতে হবে।প্রত্যেক শিক্ষার্থী কমপক্ষে একটি একটি সহশিক্ষা কার্যক্রমে থাকবে।সময়মতো সিলেবাস প্রণয়ন,হ্যান্ড নোট/কনটেন্ট তৈরি করা এবং সকল রেজিস্ট্রার হালনাগাদ রাখা।নিয়মিত অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং মাসে অন্তত একবার মা ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করাসহ নিয়মিত হোম ভিজিট করতে হবে।শিশুদের জন্য আনন্দঘন ও শিক্ষার শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ খেলাধুলার উপকরণ সরবরাহ রাখতে হবে।পাঠদানের কৌশল হিসেবে প্রয়োজনীয় মাল্টিমিডিয়া ও অন্যান্য উপকরণ পাঠদানে ব্যাবহার করতে হবে।প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।প্রতিদিন সমাবেশ বা ক্লাসে ১০ মিনিট স্বাস্থ্যবিষয়ক টিপস নৈতিকতা এবং সামাজিক মুল্যবোধের আলোচনা করা এবং শিশুদের মধ্যে সততা,দায়িত্ববোধ,ধর্মচর্চা ও গুরুজনকে সন্মান করার অভ্যাস গড়ে তোলা।সততা স্টোর চালু করা।

ব্যাচ শিক্ষকগণের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করা।হলদে পাখি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।কাব স্কাউট পরিচালনা জোরদার করা।ক্ষুদে ডাক্তারের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।এছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রতিনিয়ত প্রনিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফেরদৌসী বেগম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার,জাহাঙ্গীর আলম এবং ইশরাত জাহান।

সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই কার্যক্রম শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য বিদ্যালয়ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মডেল বিদ্যালয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

0/Post a Comment/Comments